![]()
ই-বাংলাদেশ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করেছে দাপটের সঙ্গে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ে মাঠ মাতিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচে চোখধাঁধানো হ্যাটট্রিক করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও এক মানবিক আচরণের মাধ্যমে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় স্পর্শ করেছেন এই ফুটবল মহাতারকা।
বিশ্বকাপ ২০২৬, আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া ম্যাচ, লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক এবং বিশ্বকাপ রেকর্ড—এসব নিয়েই যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরগরম, তখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে মেসির এক হৃদয়ছোঁয়া মুহূর্ত। আলজেরিয়ার অভিজ্ঞ ফুটবলার রিয়াদ মাহরেজের ছোট্ট মেয়ে মিলার একটি স্বপ্ন পূরণ করে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই কিংবদন্তি।
ম্যাচ শেষে মাঠে শান্ত ও স্বাভাবিক মেজাজে দেখা যায় মেসিকে। সেই সময় আলজেরিয়ার তারকা রিয়াদ মাহরেজের কন্যা মিলা তার প্রিয় ফুটবলারের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পায়। শুধু ছবি তুলেই দায়িত্ব শেষ করেননি মেসি; বরং হাসিমুখে ছোট্ট ভক্তের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেন।
প্রথমদিকে ঘটনাটি খুব বেশি আলোচনায় না এলেও পরে মাহরেজের স্ত্রী টেইলর ওয়ার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিতে দেখা যায়, আলজেরিয়ার জার্সি পরা ছোট্ট মিলা উচ্ছ্বসিত মুখে দাঁড়িয়ে আছে তার স্বপ্নের নায়ক লিওনেল মেসির পাশে। আর মেসিও আন্তরিক হাসিতে মুহূর্তটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছেন।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বসেরা খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি একজন মানুষের বিনয়, নম্রতা ও ভক্তদের প্রতি ভালোবাসাই তাকে কিংবদন্তির আসনে বসায়। মেসির এই আচরণ আবারও প্রমাণ করেছে কেন তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং কোটি মানুষের আবেগের নাম।
উল্লেখ্য, ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে লিওনেল মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন রিয়াদ মাহরেজ। তিনি বলেছিলেন, “মেসিই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় এবং বিশ্বকাপ তার সবচেয়ে প্রিয় মঞ্চ।”
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি মেসির জন্য ছিল ইতিহাস গড়ার রাত। নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। বর্তমানে বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেসি ও ক্লোসা—দুজনেরই গোল সংখ্যা ১৬।
ফলে এক রাতেই দুটি কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। একদিকে বিশ্বকাপ রেকর্ড, অন্যদিকে ছোট্ট এক ভক্তের মুখে হাসি ফোটানোর মানবিক উদ্যোগ। মাঠের ফুটবলীয় জাদু আর মাঠের বাইরের বিনয়ী আচরণ—দুই মিলিয়ে আবারও প্রমাণ করলেন, কেন লিওনেল মেসিকে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা আইকন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শুরুতেই মেসির এই পারফরম্যান্স এবং মানবিক আচরণ ফুটবলপ্রেমীদের নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে—মহান খেলোয়াড়রা শুধু গোল দিয়েই নয়, হৃদয় জয় করেও ইতিহাস লিখে যান।