![]()
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি ও হ্যাকিং মামলা এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে অন্যতম জটিল ও বিস্তৃত আর্থিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০১৬ সালের মার্চে শুরু হওয়া এই মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দেশি–বিদেশি মিলিয়ে মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করেছে। তদন্তে বলা হচ্ছে, এই অপরাধচক্রটি সাতটি দেশে বিস্তৃত ছিল এবং এতে আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ, ব্যাংকিং কর্মকর্তা ও আর্থিক মধ্যস্থতাকারীরা জড়িত।
তদন্ত অনুযায়ী, চুরি হওয়া অর্থ প্রথমে ফিলিপাইনে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে একটি বড় মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তা বিভিন্ন আর্থিক চ্যানেলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই অংশে ফিলিপাইনের ৩৬ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তা ও ক্যাসিনো-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের চার নাগরিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট সিস্টেমে অনুপ্রবেশ ও হ্যাকিংয়ে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার লাজারাস গ্রুপসহ চীন, শ্রীলঙ্কা ও জাপানের নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অংশেও তৎকালীন ও বর্তমান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, সুইফট বার্তা, ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্ট এবং বিভিন্ন জবানবন্দির ভিত্তিতে তাদের ভূমিকা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা এই ঘটনার সুযোগ তৈরি করেছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সাত বছরের তদন্তে এফবিআই রিপোর্ট, এমএলএআর (Mutual Legal Assistance Request) ডকুমেন্ট এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নথি বিশ্লেষণ করে পুরো চক্রের কাঠামো উন্মোচন করা হয়েছে। এর মধ্যে চুরি হওয়া অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বড় একটি অংশ আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন চ্যানেলে স্থানান্তর করা হয়।
সবশেষে সিআইডি জানায়, শতভাগ প্রমাণের ভিত্তিতে একটি খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং আইনি মতামতের পর চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য