![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বগুড়ার শিবগঞ্জে নবগঠিত ইউনিয়নগুলোর নামকরণকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের পরিবারের সদস্যদের নামের সঙ্গে কয়েকটি নতুন ইউনিয়নের নামের মিল পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে বিষয়টিকে ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তবে বিতর্ক থামার আগেই সামনে এসেছে আরও একটি নতুন তথ্য, যা নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও প্রশ্ন আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্র এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শুধু প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামের সঙ্গে নয়, তার এক ভাতিজির নামের সঙ্গেও মিল রেখে একটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে বলে আলোচনা চলছে।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রতিমন্ত্রীর এক ভাতিজিকে পরিবারের সদস্যরা ‘স্বর্ণ’ নামে ডাকেন। স্থানীয়দের দাবি, এই নামের সঙ্গে মিল রেখেই মোকামতলা উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন ভেঙে গঠিত নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’।
এ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, নতুন প্রশাসনিক ইউনিটের নামকরণে ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক কিংবা সাংস্কৃতিক গুরুত্বের পরিবর্তে কোনো ব্যক্তির পারিবারিক পরিচয়ের প্রভাব ছিল কি না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ এটিকে কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, একাধিক ইউনিয়নের নাম একই পরিবারের সদস্যদের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়া সাধারণ ঘটনা নয়।
এর আগে প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকা ইউনিয়নের নাম নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছিল। পরে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিষয়টিকে ‘মিরাকল’ বলে উল্লেখ করেন।
তবে বিরোধী মতের ব্যক্তিরা বলছেন, ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাঠামোর নামকরণে স্বচ্ছতা, জনমত এবং স্থানীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন থাকা উচিত। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রীর সমর্থকদের দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিষয়টিকে অযথা বিতর্কিত করা হচ্ছে।
নবগঠিত ইউনিয়নগুলোর নামকরণ প্রক্রিয়া, প্রস্তাবদাতা এবং অনুমোদনের ধাপ নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এলে বিতর্কের অবসান হতে পারে।
এদিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রশ্ন উঠলে জনআস্থার বিষয়টিও সামনে চলে আসে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে ইউনিয়নগুলোর নামকরণ নিয়ে চলমান আলোচনা আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।