![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নামটি শুধু পর্তুগালের নয়, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসেরও অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায়। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। কারণ, এবার বিশ্বকাপে মাঠে নামতে পারলে তিনি টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিরল রেকর্ড গড়বেন, যা ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিশ্বকাপ মানেই কোটি কোটি মানুষের আবেগ, স্বপ্ন এবং প্রত্যাশার মঞ্চ। এই মঞ্চে অসংখ্য তারকা এসেছেন, সাফল্য অর্জন করেছেন এবং সময়ের সঙ্গে বিদায়ও নিয়েছেন। কিন্তু কিছু ফুটবলারের নাম ইতিহাসের পাতায় স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেয়। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ঠিক তেমনই একজন কিংবদন্তি, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন।
৪১ বছর বয়সেও রোনালদোর ফিটনেস, আত্মবিশ্বাস এবং পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের বিস্মিত করছে। ২০০৩ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে পর্তুগালের সাফল্যের অন্যতম চালিকাশক্তি। বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরের হয়ে খেললেও জাতীয় দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ও প্রতিশ্রুতিতে কোনো ঘাটতি নেই।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে তাকে নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, এই বয়সে কি বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব? তবে সমালোচনার জবাবে রোনালদো খুব বেশি কথা বলেননি। বরং আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে তিনি বলেছেন, “আপনারা কি ম্যাচগুলো দেখেননি?” এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলদাতার আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপে পর্তুগালের প্রথম প্রতিপক্ষ কঙ্গো। ম্যাচটি ঘিরে ইতোমধ্যেই ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সমর্থকদের বিশ্বাস, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণে রোনালদো এবারও দলের জন্য বড় ভূমিকা পালন করবেন। শুধু গোল করাই নয়, তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করাও তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘ সময় ধরে নিজের অবস্থান ধরে রাখার পেছনে রয়েছে কঠোর অনুশীলন, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত বিশ্রাম এবং অসাধারণ আত্মনিয়ন্ত্রণ। সম্প্রতি দলের মেডিকেল পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার কিছু শারীরিক সূচক এখনো প্রায় সেই পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে জাতীয় দলে অভিষেকের সময় ছিল। বিষয়টি ফুটবল বিশ্লেষক ও চিকিৎসকদের কাছেও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও রোনালদোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা। ক্লাব ফুটবলে প্রায় সব বড় শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পুরস্কারের রেকর্ডও তার দখলে। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপকে অনেকেই তার শেষ বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন
পর্তুগাল দলকে নিয়ে আশাবাদী রোনালদো বিশ্বাস করেন, বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়রা দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করতে সক্ষম। তিনি মনে করেন, দলগত পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত সাফল্যের চাবিকাঠি হবে।
ফুটবল বিশ্ব যখন হিসাব কষছে রোনালদোর সময় শেষ হয়ে এসেছে কিনা, তখন তিনি আবারও প্রমাণ করতে প্রস্তুত যে বয়স শুধু একটি সংখ্যা। মাঠের লড়াই, গোলের ক্ষুধা এবং জয়ের আকাঙ্ক্ষা এখনও আগের মতোই প্রবল। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রতিটি ম্যাচই হতে পারে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়।
পাঠকের মন্তব্য