![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা, রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বরিশাল ও লালমনিরহাটে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে আধুনিক অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব উঠে আসে। পরবর্তীতে এসব প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে বাস্তবায়নের জন্য স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বরিশালে ইপিজেড স্থাপন হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। পায়রা সমুদ্রবন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। একইসঙ্গে স্থানীয় জনগণের জন্য হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে কর্মসংস্থানের জন্য রাজধানীমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে এবং আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস পাবে।
অন্যদিকে লালমনিরহাটে ইপিজেড প্রতিষ্ঠা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষিপণ্যভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাত গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর এবং রেল যোগাযোগের সুবিধা থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানি আরও সহজ হবে।
গাজীপুরে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্পকারখানাগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে, কৃষিজমি রক্ষা পাবে এবং আধুনিক শিল্প অবকাঠামো গড়ে উঠবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এক জায়গায় প্রয়োজনীয় সেবা পেয়ে দ্রুত বিনিয়োগ করতে পারবেন।
বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে উপকূলীয় অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। বিশেষ করে মৎস্য, কৃষি, সামুদ্রিক সম্পদ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পর্যটন খাতের ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অঞ্চল চালু হলে দক্ষিণাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
সরকারের এই উদ্যোগকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।