
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও দাম বৃদ্ধির মধ্যে জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জি-৭ভুক্ত দেশগুলো। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে এই সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জি-৭ দেশগুলো জরুরি মজুত থেকে মোট ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে এবং চার মাস ধরে চলবে। প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ফ্রান্সের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। ওই প্রস্তাবে ইউরোপীয় দেশগুলোর জরুরি মজুত থেকে ডিজেল এবং আইইএ সদস্য দেশগুলোর মজুত থেকে অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনার কথা উঠে আসে। তবে চূড়ান্ত জি-৭ বিবৃতিতে কোন দেশ কত পরিমাণ জ্বালানি ছাড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বণ্টন উল্লেখ করা হয়নি।
জ্বালানি মজুত ছাড়ার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল ফিউচারসের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে প্রতি গ্যালন ৪.৪৪৯১ ডলারে নেমে আসে। ইউরোপের বেঞ্চমার্ক ডিজেল ফিউচারসের দামও প্রতি মেট্রিক টনে ৯০ ডলারের বেশি কমেছে।
আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল জানিয়েছেন, মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্তের পর তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘোষণার পর তেলের দামে প্রায় ৫ ডলার পর্যন্ত পতন দেখা গেছে। প্রয়োজন হলে আরও মজুত বাজারে ছাড়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
জি-৭-এর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইইএর মাধ্যমে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি বাজারে ছাড়ার কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে এবং চার মাস চলবে। এর মধ্যে প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা হবে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জ্বালানি সরবরাহের ওপর তৈরি হওয়া চাপ কমানো এবং বিশ্ববাজারে দামের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা। তবে নতুন চুক্তির আওতায় ঠিক কত পরিমাণ ডিজেল এবং কত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কোন দেশ থেকে আসবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বণ্টন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে আইইএ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জি-৭-এর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর চাপের মধ্যে ইউরোপের জরুরি ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্তকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেছেন।
এর আগে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মার্কিন প্রশাসন জার্মানি ও ফ্রান্সকে তাদের জরুরি ডিজেল মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার জন্য চাপ দিয়েছিল। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপে ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছিল।
তবে শুক্রবারের জি-৭ বিবৃতিতে সদস্য দেশগুলো পরস্পরের মধ্যে জ্বালানি ও জ্বালানি পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে আপাতত জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে পারস্পরিক রপ্তানি বাধা না দেওয়ার বিষয়ে জি-৭ দেশগুলো একটি সমন্বিত অবস্থানে পৌঁছেছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে এর আগে মার্চেও আইইএর সমন্বয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জরুরি জ্বালানি মজুত ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নতুন ১০ কোটি ব্যারেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর আরেকটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে এসেছে।
পাঠকের মন্তব্য