![]()
দেশে জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Bangladesh Petroleum Exploration and Production Company Limited (BAPEX)-কে আরও সক্রিয় ও সক্ষম করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী Iqbal Hasan Mahmud Tuku।
শুক্রবার রাজধানীর Osmani Memorial Auditorium-এ আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্রসীমায় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম প্রত্যাশিতভাবে এগোয়নি। সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির পরও সম্ভাবনাময় অনেক এলাকায় প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান হয়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার এ বাস্তবতা মূল্যায়ন করে বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি জানান, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও কূপ খনন কার্যক্রম জোরদার করতে বাপেক্সের জন্য আরও পাঁচটি রিগ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানে অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার কারণে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে অফশোর ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ব্লক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে সময় লাগবে। ততদিন পর্যন্ত আমদানির ওপর নির্ভর করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে কিছু বিদ্যমান জ্বালানি চুক্তিতে ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে তেল আমদানি করেছে এবং বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও দেশে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তির ফলে সরকারকে একদিকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে ভোক্তাদের কাছে তুলনামূলক কম দামে সরবরাহ করতে হচ্ছে। ফলে ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারকে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দায়ও পরিশোধ করতে হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী এ সক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ব্যবহৃত ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক ও কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পায়।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ‘স্পিনিং মার্জিন’ সংরক্ষণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর ইতিবাচক ফল আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করবে।
পাঠকের মন্তব্য