![]()
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহাযাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে আজ। চার বছর অপেক্ষার পর আবারও ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে ঘিরে উন্মাদনায় মেতে উঠেছে পুরো বিশ্ব। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এবারই প্রথম ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ, যা ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশ্বকাপ শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি আবেগ, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক। যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট কিংবা আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বকাপ এমন একটি আয়োজন, যা কোটি কোটি মানুষকে একই আবেগে একত্রিত করে।
এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দেশ, যেখানে মোট ১ হাজার ২৪৮ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করবেন। ছয় সপ্তাহব্যাপী চলবে এই প্রতিযোগিতা। আয়োজক হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ। ফলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ভেন্যু আজতেকা স্টেডিয়াম ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় স্থান। এই মাঠেই ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। এখানেই দিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। ফুটবলের অসংখ্য স্মৃতি ধারণ করে থাকা এই স্টেডিয়াম এবার আবারও বিশ্ববাসীর নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আরেকটি বড় আকর্ষণ হচ্ছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফুটবল বিশ্বের দুই কিংবদন্তির জন্য এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। একদিকে আর্জেন্টিনার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক মেসি, অন্যদিকে পর্তুগালের সুপারস্টার রোনালদো—দুজনেরই লক্ষ্য নিজেদের ক্যারিয়ারে আরও একটি স্বর্ণালি অধ্যায় যোগ করা।
একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের তারকারাও আলোচনায় রয়েছেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহ্যাম, লামিনে ইয়ামাল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জামাল মুসিয়ালা ও জুলিয়ান আলভারেজদের ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশ্বকাপই আগামী এক দশকের নতুন সুপারস্টারদের পরিচয় বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবে।
এবারের বিশ্বকাপে প্রযুক্তির ব্যবহারও থাকবে নজরকাড়া। উন্নত অফসাইড প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট বল এবং রিয়েল টাইম ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ম্যাচ পরিচালনা আরও নিখুঁত করার উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু ফুটবলের প্রতিযোগিতা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, বিনোদন ও মানবিক আবেগের এক মহামিলনমেলা। কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন অপেক্ষা করছেন প্রথম বাঁশির জন্য, যে বাঁশির সঙ্গে শুরু হবে নতুন ইতিহাস লেখার লড়াই।