![]()
বাণিজ্যিক বীমায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: ৫৭১ কোটি টাকার বিনিয়োগ পেল স্টার্টআপ ‘হার্পার’
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
হার্পার নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক বাণিজ্যিক বীমা ব্রোকারেজ স্টার্টআপ যৌথভাবে সিরিজ ‘এ’ এবং সিড ফান্ডিং রাউন্ডে ৪ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫৭১ কোটি টাকা।
সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটি এই বড় অঙ্কের বিনিয়োগের তথ্য জানিয়েছে। প্রযুক্তি বিষয়ক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই বিনিয়োগ রাউন্ডে প্রধান নেতৃত্ব দিয়েছে এমারজেন্স ক্যাপিটাল। এতে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নিয়েছে বিশ্বখ্যাত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ওয়াই কম্বিনেটর, লবস্টার ক্যাপিটাল এবং পিক ফিফটিন পার্টনার্স। চলতি বছরের প্রতিযোগিতাপূর্ণ ওয়াই কম্বিনেটরের ২০২৫ উইন্টার ব্যাচেও অংশ নিয়েছিল হার্পার।
গ্রাহকসেবা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডাকোটাহ রাইস এবং পুলইটের সাবেক প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা তুষার নায়ার যৌথভাবে এই স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে রাইস ‘পুলইট’ নামের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, যা ২০২৩ সালে বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করা হার্পার নিজেদের মূলত একটি ‘এআই-নেটিভ’ বাণিজ্যিক বীমা সংস্থা হিসেবে বর্ণনা করে। এই প্ল্যাটফর্মটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি স্তরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মী ক্ষতিপূরণ, সাধারণ দায়বদ্ধতা এবং পেশাদার দায়বদ্ধতার মতো বীমা সুবিধার জন্য ১৬০টিরও বেশি বীমা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত করে। ডাকোটাহ রাইসের তথ্যমতে, অত্যন্ত অল্প সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৫ হাজারেরও বেশি গ্রাহককে সফলভাবে সেবা দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই স্টার্টআপটির মূল লক্ষ্য হলো বীমা খাতের সনাতনী ও কায়িক প্রক্রিয়াগুলোকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা। এর মধ্যে বীমা আবেদন বা জমা প্রক্রিয়াকরণ, আন্ডাররাইটারদের ফলো-আপ, নথিপত্র সংগ্রহ এবং অভ্যন্তরীণ পাইপলাইন ব্যবস্থাপনা অন্যতম। হার্পার মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যঅঞ্চলের ডে-কেয়ার সেন্টার, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, গাড়ি বিক্রয় কেন্দ্র এবং স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
নতুন পাওয়া এই বড় তহবিল প্রধানত তাদের প্রকৌশল দলের সম্প্রসারণ এবং ব্র্যান্ডের পরিচিতি বাড়াতে ব্যবহার করা হবে। ভবিষ্যতে শুধু বীমা খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্যোক্তাদের জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কমপ্লায়েন্স এবং ব্যাক-অফিস সেবার মতো বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
পাঠকের মন্তব্য