![]()
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে জনগণ বিএনপি এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আস্থা রেখেছে। ফলে বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়িত্ব আগের চেয়ে আরও বেড়ে গেছে। জনগণের এই আস্থার প্রতিদান দিতে হলে সেবামূলক কর্মকাণ্ড ও জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।
বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী উপজেলা পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পতন প্রমাণ করেছে যে ধমক, ভয়ভীতি কিংবা দমন-পীড়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের একমাত্র পথ হলো সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে সাবেক সরকার এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল যে শেষ পর্যন্ত তাদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। বিএনপি সে ধরনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; বরং একটি সুন্দর, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে দেশের গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাংকিং খাত, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারকে সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব নিতে হয়েছে। অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করে উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে আনতে সময় ও প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কথা কখনো ভুলে গেলে চলবে না। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এসব সংগ্রামের চেতনাকে ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসা মানেই দায়িত্ব বৃদ্ধি পাওয়া। জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, সৎ ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করা এখন দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর কর্তব্য।
সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়নে সরকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রুহিয়া ও ভুল্লীকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার বহুল প্রত্যাশিত মেডিকেল কলেজ স্থাপন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং পরিত্যক্ত বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পাঠকের মন্তব্য