![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক সহায়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘স্টাফ ভিজিট’ বা প্রতিনিধিদল সফরের পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৩ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান Ivo Krznar জানান, এই সফর বাংলাদেশ সরকারের চলমান সংস্কার কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নীতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে আইএমএফের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণেও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আইএমএফ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার নতুন একটি আইএমএফ-সমর্থিত ঋণ কর্মসূচির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য ঋণের পরিধি, আর্থিক আকার, সংস্কার বাস্তবায়নের শর্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
ইভো ক্রজনার বলেন, নতুন সম্ভাব্য ঋণ কর্মসূচির কাঠামো নির্ধারণের আগে আইএমএফ বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, নীতি সংস্কারের অগ্রগতি এবং সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলো গভীরভাবে মূল্যায়ন করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় একটি শক্তিশালী সংস্কারভিত্তিক কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইএমএফ মিশন প্রধান আরও বলেন, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত বর্ধিত ক্রেডিট সুবিধা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সুবিধা (ইএফএফ) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তা কাঠামো হিসেবে কাজ করেছে। তবে সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন এক সময় দায়িত্ব পালন করছে যখন অর্থনীতি একাধিক জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, খেলাপি ঋণ সমস্যা, রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতা এবং বৈদেশিক খাতের চাপ অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন আইএমএফ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে, আর্থিক খাতের সংস্কার এগিয়ে নিতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য