![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, লেবানন সংঘাত এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি স্বীকার করেছেন যে, লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে এক ফোনালাপের সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-কে তিনি ‘পাগল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
বুধবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মতো তিনি সত্যিই নেতানিয়াহুকে এমন মন্তব্য করেছিলেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, বলেছিলাম। তবে আমি রাগান্বিত ছিলাম না। বরং লেবানন নিয়ে তার বারবার সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি আমাকে কিছুটা বিরক্ত করেছিল।”
ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল, অন্যদিকে লেবানন সীমান্তে সংঘাত পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তার এবং নেতানিয়াহুর সম্পর্ক এখনো ভালো রয়েছে। তিনি জানান, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তার নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরেও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে লেবানন, ইসরায়েল এবং ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে।
এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, সাম্প্রতিক এক ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছিলেন। যদিও এই দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
ট্রাম্প আরও বলেন, একপর্যায়ে তিনি মনে করেছিলেন যে চলমান উত্তেজনা বন্ধ করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, “আমাদের এটা থামাতে হবে। আমাদের এই পরিস্থিতির ইতি টানতে হবে।” এই বক্তব্যকে অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমানোর পক্ষে তার অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
পাঠকের মন্তব্য