![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Mojtaba Khamenei-এর সঙ্গে বৈঠকও হতে পারে।
বুধবার (৩ জুন) সম্প্রচারিত ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইতোমধ্যেই এমন অবস্থানে পৌঁছেছে যেখানে তারা পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের পথে এগোবে না বলে সম্মতি জানিয়েছে। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং পরমাণু ইস্যুতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তারা ইতোমধ্যে রাজি হয়েছে যে তারা কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না।” যদিও তিনি এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা লিখিত সমঝোতার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি, তবুও তার বক্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ইরানের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ট্রাম্পের মতে, ইরানি জনগণ এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে খামেনির প্রতি যথেষ্ট সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা চলমান আলোচনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, তিনি শুনেছেন খামেনি শারীরিকভাবে খুব একটা সুস্থ নন। তবে তা সত্ত্বেও তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প বলেন, এখনো তাদের মধ্যে সরাসরি কোনো সাক্ষাৎ হয়নি, তবে ভবিষ্যতে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, “আমি তার সঙ্গে দেখা করতে চাই। সবকিছু কীভাবে এগোয় তার ওপর ভিত্তি করে সম্ভবত কোনো এক সময়ে আমাদের দেখা হবে।” এই মন্তব্যকে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প বর্তমান ইরান সংকটকে তার প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবেও উল্লেখ করেন। তার দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। তবে এই মূল্যায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ভিন্নমতও রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং তেলের দামের ওপর। একই সঙ্গে আসন্ন মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে যুদ্ধ ও পররাষ্ট্রনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
পাঠকের মন্তব্য