![]()
কোরবানির ঈদকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে অনেকটাই জনশূন্য নগরীতে। কর্মব্যস্ত শহর ছেড়ে লাখো মানুষ ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে, আবার কেউ লঞ্চে করে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এবারের ঈদে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন।
তবে নগরী ফাঁকা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও। বিশেষ করে ফাঁকা বাসা ও মূল্যবান জিনিসপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক নগরবাসী। কেউ দারোয়ানের ওপর ভরসা করছেন, কেউ আবার নিজ উদ্যোগে বাসার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে তবেই ঢাকা ছাড়ছেন।
ঢাকার এক বাসিন্দা বলেন, বাসার সবকিছু তালাবদ্ধ করে বাড়ি গেলেও এখন নিরাপত্তার বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার ওপর। আরেকজন বলেন, নাগরিক হিসেবে নিজেদের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।
ফাঁকা ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনী মাঠে কাজ করছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা, পশুর হাট, শপিংমল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত মোবাইল পেট্রোলিং ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঈদের সময় একটি চক্র ফাঁকা বাসা টার্গেট করে সিঁধ কেটে চুরির চেষ্টা করে থাকে। তারা সাধারণত যেসব বাসায় দীর্ঘসময় আলো জ্বলে না বা বাসা ফাঁকা মনে হয়, সেগুলো শনাক্ত করে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করে। বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে এবং আগের বছরের মতো এবারও আবাসিক এলাকায় বিশেষ টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, থানাভিত্তিকভাবে পূর্বে সিঁধেল চুরি বা এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্দেহজনক কাউকে দেখলে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।
ঈদকে ঘিরে ঢাকার রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেলেও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পাঠকের মন্তব্য