![]()
ইরান যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। আজ সন্ধ্যায় তিনি বেইজিং পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ২০১৭ সালের পর এটিই কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে তাইওয়ান ইস্যু, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট।
চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping এর জন্য তাইওয়ান প্রশ্নটি সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও কৌশলগত অগ্রাধিকার। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করলেও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটিকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চীন এবার ওয়াশিংটনের কাছে তাইওয়ানের জন্য নির্ধারিত বড় অস্ত্রচুক্তি স্থগিত বা সীমিত করার দাবি তুলতে পারে। বিশেষ করে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের ঝুলে থাকা অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে বেইজিং উদ্বিগ্ন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি এ বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেন, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।
দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনাও এই সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। গত দেড় বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন করে শুল্কযুদ্ধ শুরু হয়েছে, যেখানে অনেক পণ্যে শুল্ক ১০০ শতাংশের বেশি পর্যন্ত পৌঁছেছে। চীন চাইছে ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদের বাকি সময়জুড়ে বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা কমে আসুক। এর বিনিময়ে বেইজিং মার্কিন কৃষিপণ্য ও Boeing এর বিমান কেনা বাড়ানোর মতো প্রস্তাব দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান-ইসরাইল যুদ্ধও এই সফরের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে, যা চীনের অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করছে। যদিও চীন প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, ওয়াশিংটন চায় বেইজিং যেন Iran এর ওপর চাপ প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে Xi Jinping নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারেন, যা বৈশ্বিক কূটনীতিতে চীনের প্রভাব আরও বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য