![]()
বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সংকট, নদী পুনরুজ্জীবন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় অনুমোদিত এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা, যদিও পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকার বেশি। রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় নির্মিতব্য এই ব্যারাজের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতীসহ বিভিন্ন নদী ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। এর ফলে কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, পাবনা, রাজশাহী ও বরিশাল অঞ্চলের প্রায় ২.৮৮ মিলিয়ন হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে। একই সঙ্গে সুন্দরবন অঞ্চলে লবণাক্ততা কমানো এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রকল্পের আওতায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ব্যারাজের ওপর দিয়ে সড়ক, গ্যাস পাইপলাইন ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকায় এটি বহুমুখী অবকাঠামো করিডোর হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। সরকার আশা করছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, মৎস্য খাত, শিল্প ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তবে প্রকল্পটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশাল অর্থায়ন, দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়ন, পরিবেশগত প্রভাব, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা এবং ভারত-বাংলাদেশ পানিবণ্টন ইস্যু—এসব বিষয় সামনে রেখে বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি এর মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, খাদ্য উৎপাদন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য