প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গঠন ও উন্নয়নের স্বার্থে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চেয়েছেন। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। তার ভাষায়, “স্থিতিশীল পরিবেশ না থাকলে কিছু তৈরি হবে, আবার ভেঙেও যাবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল মতামত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী কাবেরী আজাদের শিল্পবাজার প্রসারে সরকারের পরিকল্পনা বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিল্প, সংস্কৃতি কিংবা অর্থনৈতিক অগ্রগতি—সবকিছুর জন্যই টেকসই রাজনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “রাজনীতিকে রাজপথ থেকে সংসদে নিতে হবে। শুধু হইচই করে কোনো কিছু গড়ে তোলা যায় না।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখারও পরামর্শ দেন, যাতে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভাষাগত দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়েও কথা বলেন। সরকারি চাকরিতে অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস ও স্বজনপ্রীতির বিষয়ে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তিনি অতীতের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের কারণেই অনেক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “জিরো টলারেন্স বাস্তবে পুরোপুরি সম্ভব না হলেও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।” একই সঙ্গে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক র্যাংকিং প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবের বদলে মেধা ও গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তার মতে, গবেষণা ও প্রকাশনায় মানোন্নয়ন ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
বাংলা ভাষার ব্যবহার কমে যাওয়ার বিষয়ে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি মূলত পারিবারিক ও সামাজিক চর্চার বিষয়। বিদেশে দীর্ঘদিন থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাতৃভাষার সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখা মানসিকতা ও পারিবারিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে।
পাঠকের মন্তব্য