![]()
রাজধানীতে হকার সমস্যা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে, যেখানে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দ্বিগুণ সংখ্যায় হকার বসার চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবার “হকার পুনর্বাসন” নামে সাদা রঙ দিয়ে জায়গা নির্ধারণ এবং কার্ড ইস্যুর মাধ্যমে তাদের একটি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে নগরজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।
রমনা এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দেখা যাচ্ছে, নির্ধারিত জায়গার বাইরে গিয়ে হকাররা মূল সড়কের অংশ পর্যন্ত দখল করে বসেছে। এতে সড়কের প্রস্থ কমে গিয়ে যান চলাচলে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, এসব ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অস্থায়ী এবং নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থান চূড়ান্ত নয় এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হকারদের সিটি করপোরেশনের নিবন্ধনের আওতায় এনে নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে, যাতে বিশৃঙ্খলা কমে। তবে এখনো ফি বা চার্জ নির্ধারণ করা হয়নি।
তবে এই উদ্যোগের সমালোচনা করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সড়কের মধ্যে হকারদের জায়গা নির্ধারণ করা মানে দখলদারিত্বকে বৈধতা দেওয়া। তার মতে, এতে করে ভবিষ্যতে সড়ক ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হবে এবং নতুন করে রাস্তা প্রশস্ত করেও সুফল পাওয়া যাবে না, কারণ দখল পুনরায় ফিরে আসবে।
পথচারীদের অভিযোগ, ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় তাদের বাধ্য হয়ে মূল সড়কে হাঁটতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে চালকরা বলছেন, সড়কের অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত যানজট তৈরি হচ্ছে এবং যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি নগর ব্যবস্থাপনা সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবের ফল। তাদের মতে, হকারদের পুনর্বাসন করতে হলে আলাদা নির্দিষ্ট বাজার বা কাঠামোগত স্থান তৈরি করতে হবে, সড়কের মধ্যে অস্থায়ী জায়গা দিয়ে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, রাজধানীতে হকার পুনর্বাসন উদ্যোগ এখন প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে জীবিকার প্রশ্ন, অন্যদিকে শহরের শৃঙ্খলা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য