![]()
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার, মেরিন ইউনিট, বিশেষ বাহিনী এবং যুদ্ধবিমানসহ প্রায় ৫০ হাজার সেনা ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে—এমন তথ্য দিয়েছেন একাধিক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা।
সূত্র অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংস এবং সামরিক সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করার ঘোষণা দিয়ে এই বৃহৎ সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। সেনাদের সঙ্গে প্যারাশুট ও জরুরি টিকে থাকার সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়েছে।
তবে ওয়াশিংটনের ভেতরে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেখা যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেন, ইরানবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, এখন মূল ফোকাস হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ করা। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই উদ্যোগও সাময়িকভাবে স্থগিত করেন।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ইরান যদি পূর্বে আলোচিত শর্ত মেনে নেয়, তবে যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব। অন্যথায় সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে একটি ইরানি পতাকাবাহী ট্যাংকারকে অকার্যকর করার দাবিও করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন ঘাঁটিতে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি সেনা অবস্থান করছে।
বর্তমান মোতায়েনের মধ্যে রয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২,০০০ প্যারাট্রুপার, যারা সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতিতে রয়েছে। পাশাপাশি ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের ৫,০০০ সদস্যও অঞ্চলে অবস্থান করছে। বিশেষ অভিযান বাহিনীর কিছু ইউনিটও সম্ভাব্য উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মিশনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আরব সাগরে বর্তমানে অবস্থান করছে দুটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী—ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। এসব রণতরী থেকে যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মতো বিশাল দেশ ও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে সরাসরি স্থল অভিযান চালানো অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পাঠকের মন্তব্য