![]()
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৮০৯ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। বর্তমানে দেশে মোট ১ হাজার ৪৫০ দশমিক ৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ সক্ষমতার প্রায় ৫ দশমিক ০১ শতাংশ।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আমদানি-নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ১৩টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৫৭২ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার অতিরিক্ত রুফটপ সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে দেশে ১ হাজার ১৭৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৬টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি সরকারি উদ্যোগে এবং ২০টি বেসরকারি খাতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিপিডিবির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশে গ্রিডভিত্তিক মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। ক্যাপটিভ ও অফ-গ্রিড উৎপাদন যোগ করলে মোট সক্ষমতা দাঁড়ায় ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াটে।
বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি দেশে ২৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ, ৬২ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ, শূন্য দশমিক ৬৯ মেগাওয়াট বায়োগ্যাস এবং শূন্য দশমিক ৪ মেগাওয়াট বায়োমাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা এখন প্রায় ১ হাজার ৭৪৩ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট।
রাষ্ট্রায়ত্ত Rural Power Company Limited (RPCL) জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর পার্ক নির্মাণ করছে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদকরা (আইপিপি) আরও ১৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রুফটপ সোলার এবং বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্প্রসারণ করা গেলে জ্বালানি আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী বলেন, ১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করলে প্রায় ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে। তিনি আরও বলেন, পূর্বে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ করা অব্যবহৃত জমিতে সৌর প্রকল্প স্থাপন করা গেলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসবে।
আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা International Renewable Energy Agency (আইরেনা)-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে চীন। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত।
দক্ষিণ এশিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক বিস্তার আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচিত হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য