![]()
যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচলের বিনিময়ে ইরান-কে কোনো ধরনের ‘টোল’ বা মাসুল দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ Office of Foreign Assets Control (ওএফএসি) শুক্রবার এক সতর্কবার্তায় জানায়, ইরান সরকারকে অর্থ প্রদান সাধারণত মার্কিন আইনে নিষিদ্ধ। শুধু মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানই নয়, বিদেশি কোম্পানি বা ব্যক্তিরাও এমন লেনদেন করলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন।
ওএফএসি আরও জানিয়েছে, টোল আদায়ে শুধু নগদ অর্থ নয়, ডিজিটাল সম্পদ, অনানুষ্ঠানিক সোয়াপ বা বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থাও ব্যবহার হতে পারে। এমনকি ইরানি দূতাবাসে দেওয়া অনুদানও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
সংস্থাটির মতে, ইরানি বন্দর ও নৌপরিবহন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেকোনো কার্যক্রম এখন “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ”। একই সঙ্গে তারা ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর নজরদারি আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের অর্থ উপার্জন ও আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের সক্ষমতা দুর্বল করতে ওয়াশিংটন “নিরলসভাবে” কাজ চালিয়ে যাবে।
বর্তমান উত্তেজনার পটভূমিতে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে এবং নিরাপদ চলাচলের বিনিময়ে টোল আদায়ের দাবি করেছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর United States Central Command (সেন্টকম) জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে ৪৫টি পণ্যবাহী জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার জাহাজ এই নৌপথ ব্যবহার করলেও বর্তমানে চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।
পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও। UNHCR জানিয়েছে, বিকল্প নৌপথ ব্যবহার করতে হওয়ায় ত্রাণ পরিবহনের খরচ ও সময় দুটোই বেড়ে গেছে। বিশেষ করে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে খাদ্য ও জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে বড় ধরনের বিলম্ব হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেননি এবং বলেছেন, তেহরানের কিছু দাবি তার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
পাঠকের মন্তব্য