![]()
দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের অন্তত ৭৪ শতাংশই টিকা পায়নি। রাজধানীতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ শিশু হামের প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছিল, আর ১২ শতাংশ দুই ডোজ নেওয়ার পরও সংক্রমিত হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে সারা দেশে ১,৩১৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৮৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৭ জন শিশু নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে, পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে আরও ২২৭ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ব্রিফিংয়ে ইউনিসেফ বাংলাদেশের ইমিউনাইজেশন বিশেষজ্ঞ ডা. রিয়াদ মাহমুদ জানান, গত ৫ এপ্রিল ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং যেসব এলাকায় এই কার্যক্রম চালানো হয়েছে সেখানে নতুন সংক্রমণ কমে এসেছে। এতে আশা করা হচ্ছে, মে মাসের শেষ নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, শিশু মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে এবং পরীক্ষার সীমাবদ্ধতার কারণে রোগ শনাক্তে কিছুটা সময় লাগছে। তিনি আরও জানান, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) টিকা শিগগিরই দেশে পৌঁছাবে এবং হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ল্যাব পরীক্ষায় মোট ৪,৯৪৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং প্রায় ৩৫,৯৮০টি সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে। সব মিলিয়ে, টিকাদান ঘাটতি ও অপুষ্টি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুললেও চলমান টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার আশা করা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য