![]()
ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। এক সিনিয়র কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা এ যুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্যয়ের হিসাব। এই অর্থের বড় অংশই গোলাবারুদ কেনার পেছনে খরচ হয়েছে বলে কংগ্রেসের শুনানিতে জানান পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রক জুলস হার্স্ট।
তবে এই হিসাবের মধ্যে ঠিক কী কী খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটির পুনর্গঠন ব্যয় ধরা হয়েছে কি না—তা স্পষ্ট করা হয়নি। এর আগে বিভিন্ন সূত্রে যুদ্ধের শুরুতেই ব্যয়ের পরিমাণ দ্রুত বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, যা এই হিসাবকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও এই ব্যয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকায় Donald Trump-এর রিপাবলিকানদের জন্য প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যুদ্ধের ব্যয় ও এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কংগ্রেসে তীব্র বিতর্ক চলছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth এই ব্যয়কে যৌক্তিক বলে দাবি করে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে এই পদক্ষেপ জরুরি। তার মতে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে এই ব্যয়কে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের ব্যয়, কৌশল এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তারা মনে করছেন, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল সামরিক জটিলতায় ফেলে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে কয়েক সপ্তাহের টানা বিমান হামলার পর বর্তমানে এক ধরনের নাজুক যুদ্ধবিরতি চলছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রেখেছে। এখন পর্যন্ত সংঘাতে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পাঠকের মন্তব্য