![]()
দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে কোনো উন্নতির লক্ষণ নেই বলে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সূত্র ও হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল এবং ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই হামের পর নিউমোনিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতায় মারা যাচ্ছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে মেনিনজোএনসেফালাইটিস ও সেপটিসেমিয়ার মতো মারাত্মক জটিলতাও দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব হাসপাতালে মারা যাওয়া ৬৬ শিশুর মধ্যে অধিকাংশই টিকাবঞ্চিত ছিল। অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই, যা দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বয়সভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, মৃত শিশুদের একটি বড় অংশ ছিল ৭–১০ মাস বয়সী, অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ বয়সসীমার মধ্যে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার শিশু হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে, যার মধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুধু রাজধানীর কয়েকটি বড় হাসপাতালে কয়েক হাজার রোগী ভর্তি হয়েছে এবং বহু মৃত্যু নিউমোনিয়া ও অপুষ্টির কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হামের পর শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) দ্রুত জটিল আকার ধারণ করছে। অপুষ্টি এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, কারণ অপুষ্ট শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক দুর্বল। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন না থাকাও পরিস্থিতি জটিল করেছে বলে তারা মনে করছেন।
চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, অনেক শিশুকে দেরিতে হাসপাতালে আনা হচ্ছে এবং প্রথমে গ্রাম বা উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় অবস্থার অবনতি ঘটছে। ফলে হাসপাতালে আসার আগেই বা অল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। তারা অভিভাবকদের দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া, টিকাদান নিশ্চিত করা এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, হামের চলমান প্রাদুর্ভাব শিশুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং দ্রুত টিকাদান ও পুষ্টি ব্যবস্থার উন্নতি ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
পাঠকের মন্তব্য