![]()
সুনামগঞ্জসহ দেশের হাওরাঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্যাপক ফসলহানি ও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জে গত দুই দিনে ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। এতে হাওর ও নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে পাকা বোরো ধান তলিয়ে যাচ্ছে। জেলার অন্তত দুটি ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে বিভিন্ন হাওরে ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। এখনো প্রায় অর্ধেকের বেশি ধান কাটা বাকি থাকায় কৃষকরা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
কেবল সুনামগঞ্জই নয়, একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলেও। এসব এলাকায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। নেত্রকোনায় প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, আর কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ধান কাটার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। মৌলভীবাজারেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল নষ্ট হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উজানের চেরাপুঞ্জিতে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পাহাড়ি ঢল আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি আগামী দুদিন অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, কিছু বাঁধ দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিক সংকট, জলাবদ্ধতা ও যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, কৃষকেরা চোখের সামনেই পাকা ধান তলিয়ে যেতে দেখে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেক কৃষক ঋণ করে বোরো ধান চাষ করেছিলেন, কিন্তু ফসল ঘরে তুলতে না পারায় তারা আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। প্রশাসন মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওরাঞ্চলের পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য