![]()
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা গ্রামে হামের প্রাদুর্ভাব আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় অন্তত তিনটি শিশু ইতোমধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে এবং ৭০ জনেরও বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সীমান্তঘেঁষা ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এসব পাড়ায় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম না পৌঁছানো এবং টিকা গ্রহণে অনীহা—এই দুই কারণকে প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, আক্রান্তদের বড় একটি অংশই অত্যন্ত দুর্গম জুমচাষি পরিবারগুলোর শিশু, যাদের অনেকেই এখনো কোনো ধরনের হামের টিকার আওতায় আসেনি। ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আলীকদমের ইয়াংরিং পাড়ার একটি আবাসিক হোস্টেলেও একসঙ্গে ৩০ জনের বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে, যেখানে চিকিৎসার পথে একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
হোস্টেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের দাবি, এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম নেই। যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষে প্রতিটি পাড়ায় পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিবার মৌসুমি সংক্রমণের সময় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বর্তমানে কিছু রোগী উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দ্রুততম সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে আক্রান্তদের আলাদা করে চিকিৎসা ও আইসোলেশনে রাখার মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তারা আরও বলছেন, শুধু চিকিৎসা নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি নতুন আক্রান্তদের শনাক্ত করতে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান ও টিকাদান কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, দুর্গম পাড়াগুলোতে স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব ভবিষ্যতেও বারবার দেখা দিতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য