![]()
বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ও শরণার্থীদের প্রতি আচরণ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন পোপ লিও। তিনি বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়, যা ‘গৃহপালিত পশু বা প্রাণীর চেয়েও খারাপ’।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র প্রতিবেদনে বলা হয়, আফ্রিকার চারটি দেশ সফর শেষে রোম-এ ফেরার পথে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
???? মানবিক আচরণের আহ্বান
পোপ বলেন, “অভিবাসীরা মানুষ—তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে।” তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, অভিবাসন নীতিতে মানবিকতা ও সম্মান নিশ্চিত করতে।
রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রথম মার্কিন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পোপ লিও কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করলেও তার বক্তব্যে বৈশ্বিক অভিবাসন সংকটের গভীরতা উঠে আসে।
⚖️ নীতি ও সমালোচনা
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছিলেন পোপ। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, এসব নীতি ক্যাথলিক চার্চের ‘প্রো-লাইফ’ শিক্ষার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই মন্তব্যের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল মহলে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাকে।
???? ধনী দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
পোপ বলেন, প্রতিটি দেশের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে, তবে ধনী দেশগুলোর উচিত দরিদ্র দেশগুলোর উন্নয়নে সহায়তা করা—যাতে মানুষ বাধ্য হয়ে নিজ দেশ ছাড়তে না হয়।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কেন দরিদ্র দেশগুলোর পরিস্থিতি পরিবর্তনে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছি না?”
⚠️ যুদ্ধ ও মানবাধিকার প্রসঙ্গ
পোপ লিও চলতি বছরের শুরুতে ইরান-এ বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনাও নিন্দা করেন। একইসঙ্গে তিনি সব ধরনের সহিংসতার বিরোধিতা করে বলেন, “আমি সব অন্যায় কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই, মানুষের জীবন নেওয়ার বিরোধিতা করি।”
তবে এ ইস্যুতে তার অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্যকে সামনে নিয়ে আসে।
???? সংলাপ ও শান্তির আহ্বান
পোপ বলেন, তিনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যাবেন এবং সংলাপ ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজতে চান।
আফ্রিকার কিছু স্বৈরশাসিত দেশ সফর নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ভ্যাটিকান অনেক সময় নীরবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায়, যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।