![]()
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি–এর নেতৃত্বাধীন সরকার অস্ত্র রফতানি বিধিনিষেধ শিথিলের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী দেশটির শান্তিবাদী নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি এপ্রিলের মধ্যেই নতুন নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে Reuters।
নতুন নীতির আওতায় পোল্যান্ড ও ফিলিপাইনসহ কয়েকটি দেশ জাপানের সম্ভাব্য অস্ত্র ক্রেতা হিসেবে উঠে আসছে। বিশেষ করে ফিলিপাইনের কাছে যুদ্ধজাহাজ (ফ্রিগেট) বিক্রির পরিকল্পনা দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলের কৌশলগত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন—বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং ইউক্রেন ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত—পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিকল্প অস্ত্র সরবরাহ উৎস খোঁজার প্রবণতা বাড়িয়েছে। এর ফলে জাপানের এই নীতিগত পরিবর্তন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
জাপানের বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানও ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে শুরু করেছে। Toshiba নতুন কর্মী নিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, আর Mitsubishi Electric ড্রোন, ফাইটার জেটের যন্ত্রাংশ এবং আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে–এর সময়, তবে বর্তমান সরকার সেই নীতিকে আরও দ্রুত ও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে জাপান একদিকে যেমন বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে, অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন অংশীদার পাবে।
পাঠকের মন্তব্য