![]()
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়ে আলোচনা ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। আরব কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কঠোর অবস্থান ও সামরিক চাপ ইরানকে আরও আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার ফলে পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের বড় অংশ চলাচল করে। সৌদি আরবের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে চাপ বাড়লে ইরান তার মিত্র হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে বাব আল-মান্দেবেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, যা তাদের তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।
বর্তমানে সৌদি আরব পাইপলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে লোহিত সাগর রুট ব্যবহার করে দৈনিক বড় পরিমাণ তেল রপ্তানি করছে। তবে এই রুটের শেষ ধাপ বাব আল-মান্দেব যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পুরো রপ্তানি ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়বে। এ কারণেই রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফেরার তাগিদ দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান-এর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, তাদের ওপর চাপ বাড়লে তারা বিকল্প নৌপথেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—দুই কৌশলগত জলপথই বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি। যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো এখন একদিকে সামরিক চাপ সামলাতে চাচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে যাতে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট এড়ানো যায়।
পাঠকের মন্তব্য