![]()
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) ক্রুড তেল সংকটের কারণে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজনিত অস্থিরতায় প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ রোববার বিকালে ইআরএলে পরিশোধন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা তেল এবং ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেডস্টক ব্যবহার করে সাময়িকভাবে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। তবে এই ধরনের ডেডস্টক ব্যবহার অনিরাপদ হওয়ায় যন্ত্রপাতির ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিপরীতে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক কোনো সংকট তৈরি হবে না। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-এর তথ্য অনুযায়ী, বছরে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার একটি অংশ দেশে শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং বাকিটা সরাসরি পরিশোধিত আকারে আনা হয়।
চলমান সংকটের মধ্যে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন ক্রুড তেলের একটি চালান নিশ্চিত করা হয়েছে, যা মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে নতুন একটি ক্রুড আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। জ্বালানি কর্মকর্তারা বলছেন, সাময়িকভাবে ইআরএল বন্ধ থাকলেও বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ অব্যাহত থাকায় বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই।
পাঠকের মন্তব্য