![]()
যুক্তরাষ্ট্রের ইরান অভিযানের আগে হোয়াইট হাউসের গোপন বৈঠকের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রাক্কালে হোয়াইট হাউসে টানা আড়াই সপ্তাহ ধরে একাধিক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল—যেখানে সীমিত সংখ্যক উপদেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অংশ নেন। আসন্ন বই ‘রিজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এ উঠে এসেছে সেই সময়ের নানা অজানা ও বিস্ময়কর তথ্য।
বইটির তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং তার উপদেষ্টাদের নীরব সমর্থনই যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতের পথে এগিয়ে দেয়।
মূল ৬টি গুরুত্বপূর্ণ দিক
১. সিচুয়েশন রুমে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা উপস্থাপন
১১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্পের সামনে প্রায় এক ঘণ্টার বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন নেতানিয়াহু। তিনি যুক্তি দেন, ইরানে সরকার পরিবর্তনের জন্য এটিই উপযুক্ত সময়। সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের তালিকাও দেখানো হয়, যেখানে নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভির নামও ছিল।
২. মার্কিন গোয়েন্দাদের সন্দেহ ও আপত্তি
নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা যাচাই করে মার্কিন গোয়েন্দারা এটিকে আংশিক বাস্তবসম্মত এবং আংশিক ‘অবাস্তব’ বলে অভিহিত করেন। সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ একে ‘প্রহসন’ বলে মন্তব্য করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও তীব্র সমালোচনা করেন।
৩. একমাত্র বিরোধী কণ্ঠ—জেডি ভ্যান্স
ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে একমাত্র ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সই প্রকাশ্যে এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেন। তিনি সতর্ক করেন, এই সংঘাত বড় ধরনের আঞ্চলিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থানকেও দুর্বল করবে।
৪. উপদেষ্টাদের নীরবতা
অন্যান্য উপদেষ্টারা ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কেউ সরাসরি ট্রাম্পকে থামানোর চেষ্টা করেননি। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প কার্যত একক প্রভাব বিস্তার করেন।
৫. দ্রুত বিজয়ের ভুল ধারণা
ট্রাম্প বিশ্বাস করতেন, এই যুদ্ধ হবে স্বল্পমেয়াদি এবং সহজ। তিনি ধারণা করেছিলেন, ইরান দ্রুত আত্মসমর্পণ করবে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো বড় ঝুঁকি তৈরি হবে না—যা পরে বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক প্রমাণিত হয়।
৬. ব্যক্তিগত প্রবৃত্তির প্রভাব
এই সামরিক সিদ্ধান্তটি মূলত ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও প্রবৃত্তির ওপর নির্ভর করেই নেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে তার উপদেষ্টারা আগের তুলনায় কম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্যগুলো দেখায় যে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতিতে কৌশলগত বিশ্লেষণের চেয়ে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক প্রভাবই বেশি কার্যকর ছিল।
পাঠকের মন্তব্য