![]()
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উভয় দেশই এই সমঝোতাকে নিজেদের বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে এবং দাবি করছে, যুদ্ধের প্রায় সব লক্ষ্যই অর্জিত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের দেওয়া ১১ ঘণ্টার বিশেষ প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লিখেছেন, পাকিস্তান সরকারের অনুরোধ এবং ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করেই তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তার মতে, এই প্রস্তাব ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট যুদ্ধবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর কৌশলগত সাফল্যের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।
লেভিটের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরু থেকেই ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন যুদ্ধটি ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, তবে ৩৮ দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের মূল সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে—এমনকি কিছু ক্ষেত্রে লক্ষ্য ছাড়িয়েও গেছে।
তিনি আরও বলেন, সামরিক সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে, যার ফলে কূটনৈতিক সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ উন্মুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সক্ষম হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসিআই) জানায়, যুদ্ধের প্রায় সব লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় তারা এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে ‘যুদ্ধক্ষেত্রের বিজয়’কে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আরও সুসংহত করতে ইসলামাবাদে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসএনএসসিআইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান এই যুদ্ধে নিজেদের প্রায় সব লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং প্রতিপক্ষ একটি ঐতিহাসিক ব্যর্থতার মুখে পড়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির খবরে ইরানের বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষকে আনন্দ মিছিল করতে দেখা গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা ও বিবিসি
পাঠকের মন্তব্য