![]()
সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও এপ্রিল মাসে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ পদক্ষেপ মূলত সাধারণ মানুষের কষ্ট কমানোকে প্রাধান্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে আংশিক সমন্বয়ের পরিকল্পনা থাকলেও জনসাধারণের ক্রমবর্ধমান ভোগান্তি এবং দাম বৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনা করে তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়া, বিপুল ভর্তুকির চাপ থাকা সত্ত্বেও সরকার প্রস্তাবিত দাম বৃদ্ধির পরিবর্তে বর্তমান দাম বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে।
ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অচল হওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে; ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে তা ৭০–৭৫ ডলারের মধ্যে ছিল।
বাংলাদেশ সরকার চলতি অর্থবছরে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ২৪ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে এলএনজি আমদানিতে এবং বাকি ৭ হাজার কোটি টাকা ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ মেটাতে, যা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত হবে।
কর্মকর্তারা বলছেন, দাম না বাড়ালে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কম থাকবে। যদি ডিজেলের দাম বাড়ানো হতো, তবে পরিবহন খরচ ও ভাড়া বেড়ে যেত, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ত এবং জনসমর্থন কমতো।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, ইরান সংকটের কারণে বিপিসি বর্তমানে প্রায় ১৬৭ কোটি টাকার জ্বালানি ভর্তুকি দিচ্ছে।
এছাড়া, দাম অপরিবর্তিত রাখার মাধ্যমে মজুতদারদের কাছে মজুতকৃত জ্বালানি বাজারে ছাড়ার প্রেরণাও যোগানো হচ্ছে। কারণ সংরক্ষণের খরচ সম্ভাব্য লাভের চেয়ে বেশি হওয়ায় তারা অবশেষে জ্বালানি ছাড়তে বাধ্য হবে।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর পেছনে মূলত জনকল্যাণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি মজুত নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দিয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য