![]()
দীর্ঘ ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে দেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর সচিবালয়ে যেন ফিরে এসেছে পরিচিত সেই ব্যস্ততা—করিডোরজুড়ে মানুষের চলাচল, কক্ষে কক্ষে কাজের গুঞ্জন, আর সহকর্মীদের মাঝে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের উষ্ণ দৃশ্য।
সকাল ঠিক ৯টায় সচিবালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছুটির আমেজ কাটিয়ে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার এই দিনটি শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমের সূচনা নয়, বরং এক ধরনের মানবিক পুনর্মিলনেরও মুহূর্ত। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন—যেন অফিসের আনুষ্ঠানিকতার ভেতরেও লুকিয়ে আছে পারিবারিক এক অনুভূতি।
ঈদের ছুটি মানেই ছিল কিছুটা বিরতি, কিছুটা স্বস্তি। কিন্তু সেই বিরতির পরই আবার দায়িত্বের ডাকে সাড়া দিয়ে ফিরে আসা—এটাই যেন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। সচিবালয়ের প্রতিটি কক্ষ, প্রতিটি টেবিল যেন সেই ছন্দেই আবার সজীব হয়ে উঠেছে।
দিনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তীতে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন তিনি।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততাও বাড়তে থাকে। রাজধানী ঢাকা-র দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যা যানজট নিরসনে একটি বিশেষ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ থেকে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে।
দুপুরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম—তাই এই খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।
বিকেলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে দিনশেষের কর্মসূচি সম্পন্ন করেন প্রধানমন্ত্রী। পুরো দিনজুড়ে তার এই ধারাবাহিক ব্যস্ততা যেন একটি বার্তাই দেয়—উৎসবের আনন্দ শেষে এখন সময় কাজের, সময় দায়িত্ব পালনের।
এদিকে, শুধু সচিবালয় নয়—দেশজুড়ে খুলেছে সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মজীবনে ফিরেছেন লাখো মানুষ। অনেকের চোখে এখনো লেগে আছে ঈদের স্মৃতি, আবার সেই স্মৃতিকে শক্তি করে তারা ফিরেছেন কর্মক্ষেত্রে।
উল্লেখ্য, গত ঈদুল ফিতর সারা দেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়। এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
ঈদের আনন্দ, পরিবারের উষ্ণতা আর বিশ্রামের পর আবার কর্মজীবনে ফেরা—এই রূপান্তরটাই যেন জীবনের এক অনন্য বাস্তবতা। যেখানে উৎসব আমাদের শক্তি দেয়, আর কাজ আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায় আগামী দিনের পথে।
পাঠকের মন্তব্য