![]()
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই আরও বিস্তৃত ও জটিল আকার ধারণ করছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ১৮তম দিনে নতুন করে দেশটির দুই শীর্ষ নিরাপত্তা নেতার মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।
যুদ্ধে ইতোমধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা **আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি**সহ বহু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে এবং সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে গড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানির মৃত্যু নিশ্চিত
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের অগ্রগতি এবং ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ রক্ষার জন্য আজীবন সংগ্রাম করার পর তিনি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে তাকে “শাহাদাতের মর্যাদা অর্জনকারী একজন নেতা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলি বাহিনী একটি লক্ষ্যভেদী হামলার মাধ্যমে তাকে হত্যার দাবি করেছিল। পরবর্তীতে ইরান সরকারিভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
বাসিজ কমান্ডার সোলাইমানিও নিহত
একই সময়ে ইরানের বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তিনি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবফ তাকে “গৌরবময় সেনাপতি” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন।
এর আগে পৃথক এক হামলায় তাকে হত্যার দাবি করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী।
প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান ইতোমধ্যেই প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে।
ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। বিশেষ করে ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন এবং সৌদি আরব–এ অবস্থিত ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
একই সঙ্গে ইসরায়েল–এর বিভিন্ন শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
কারণ সংঘাতে ইতোমধ্যেই একাধিক দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে। যদি এই হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকে, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি বৃহৎ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে—বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে।
উত্তেজনার মধ্যেই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে একের পর এক মৃত্যু দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকেও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
অন্যদিকে প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়ে ইরান ইতোমধ্যে হামলা জোরদার করায় সংঘাতের দ্রুত অবসানের সম্ভাবনাও আপাতত খুব কম বলে মনে করা হচ্ছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এক দীর্ঘ ও বিস্তৃত যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমেই বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে।
পাঠকের মন্তব্য