![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের আবাসন ও নির্মাণ খাতে ধীরগতির প্রভাব পড়ছে নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শিল্পে। ফ্ল্যাট বিক্রি কমে যাওয়া, ঋণের উচ্চ সুদ, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ে ধীরগতির কারণে নতুন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হচ্ছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে রড, সিমেন্ট ও সিরামিক পণ্যের চাহিদাও চাপের মুখে পড়েছে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, আর্থিক সংকট নির্মাণ খাতের অন্যতম বড় সমস্যা। ব্যাংকঋণের সুদ না কমলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন।
আবাসন ব্যবসার পরিস্থিতি তুলে ধরে তারা জানান, আগের বছরের তুলনায় আবাসন বাজারের ব্যবসা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমেছে । বিস্তারিত এলাকা পরিকল্পনা ও ভবনের অনুমোদনসংক্রান্ত নীতিগত অনিশ্চয়তাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।
রড ও সিরামিক শিল্পেও চাপ
নির্মাণকাজ কমে যাওয়ায় রডের চাহিদা কমেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সুমন চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিক্রি কমে যাওয়ায় উৎপাদকদের প্রথমে প্রতি টনে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ছাড় দিতে হয়েছে। পরে ঢাকার বাজারে রডের দামও প্রতি টনে প্রায় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা কমেছে। সরকারি ব্যয় ও বেসরকারি নির্মাণকাজে ধীরগতিকে তিনি চাহিদা কমার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এক্স সিরামিক গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় আবাসনের চাহিদা কমেছে। তাঁর হিসাবে, ঢাকায় ফ্ল্যাট বিক্রি ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ এবং সিরামিক পণ্যের চাহিদা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সূত্র মতে, নির্মাণসামগ্রীর ওপর নতুন কর ও শুল্ক আরোপে নির্মাণ ব্যয় বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে ফ্ল্যাটের দামে। তাঁর মতে, আবাসন খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৬৯টি শিল্প যুক্ত। এর মধ্যে রড, সিমেন্ট, সিরামিক, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, আসবাব ও পরিবহন খাত রয়েছে।
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধন ব্যয় কমানো, দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প সুদের ঋণ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, আবাসন খাতের কার্যক্রম বাড়লে সংশ্লিষ্ট শিল্পে চাহিদা ও কর্মসংস্থান বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
অর্থনীতিতে প্রভাব কতটা?
পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজ -এর মতে , এক বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণ খাতের ধীরগতি মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়েছে এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের ধীরগতি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে আবাসন ও নির্মাণ খাতের সংকটের কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে—ঋণের উচ্চ খরচ, ক্রেতার সীমিত ক্রয়ক্ষমতা, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি।