![]()
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে সামনে রেখে আগাম পোস্টার–ব্যানার অপসারণসহ মোট ২২টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আজ রোববার সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বয় বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বিকাল ৩টায় ইসির সম্মেলন কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
২২টি ইস্যুর গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ
১. ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও অবকাঠামো সংস্কার:
জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় ভবন মেরামত, যাতায়াতপথ, বিদ্যুৎ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২. ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুত:
সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের তালিকা সংগ্রহ করে ভোটগ্রহণকারীর প্যানেল তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেবেন।
৩. পার্বত্য এলাকায় পরিবহন:
দূরদুরান্ত ও দুর্গম ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনে সশস্ত্র বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রয়েছে। প্রয়োজনীয় হেলিপ্যাড সংস্কার করবে স্থানীয় প্রশাসন।
৪. প্রচার ও সচেতনতা:
টেলিভিশন, বেতার ও অন্যান্য মাধ্যমে আচরণবিধি ও ভোটের নিয়ম প্রচারে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নেওয়া হবে। তফসিল ঘোষণার দিন সিইসির ভাষণ একযোগে প্রচার করা হবে।
৫. নির্বাচন পর্যবেক্ষক ব্যবস্থাপনা:
দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অনুমতি, নিরাপত্তা ও ভিসা সুবিধায় মন্ত্রণালয়গুলো সহায়তা দেবে।
৬. ঋণ খেলাপী যাচাই:
ঋণ খেলাপী ব্যক্তিরা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সে জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য যাচাইয়ের কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
৭. বাজেট বরাদ্দ:
নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যয় যৌক্তিক করে বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে।
৮. জনবল ও যানবাহন:
ভোট পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জনবল, গাড়ি ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করবে।
৯. আইনশৃঙ্খলা:
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ হবে।
১০. এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট:
তফসিল ঘোষণার পর আচরণবিধি প্রতিপালনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে।
১১–১২. পরীক্ষা ও আবহাওয়া বিবেচনা:
বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষার সময় এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়ে ভোটগ্রহণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
১৩. বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চয়তা:
ভোট থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রসহ সব স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখতে হবে।
১৪. স্বাস্থ্যসেবা:
নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের জরুরি সেবা দিতে হাসপাতাল ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে।
১৫. অগ্নিনির্বাপণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে প্রস্তুত রাখা হবে।
১৬. প্রচারসামগ্রী অপসারণ:
তফসিল ঘোষণার আগে বিদ্যমান পোস্টার-ব্যানার ও অননুমোদিত সামগ্রী অপসারণে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
১৭. যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ:
মোটরসাইকেলসহ কিছু যান ও নৌযানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। চর ও পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৮–১৯. পোস্টাল ভোট:
প্রবাসী, অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ভোট এবং কারাবন্দিদের ভোট প্রক্রিয়া সুরক্ষায় ডাক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করবে।
২০. ভুয়া তথ্য মোকাবিলা:
সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া বা উসকানিমূলক তথ্য, এআই-নির্ভর বিভ্রান্তি মোকাবিলায় কৌশল প্রণয়ন করা হবে।
২১. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি:
সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি নাশকতা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা থাকবে।
২২. ভোটার নিরাপত্তা:
ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া–আসা নিশ্চিত করা, সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার এবং সেবা সহজীকরণে মন্ত্রণালয়গুলোর সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
ইসির প্রত্যাশা, আজকের বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাব ও সুপারিশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ মোট ৩৪টি মন্ত্রণালয়–বিভাগের প্রতিনিধি এতে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে ইসি নাগরিক সমাজ, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দফায় দফায় সংলাপ করেছে।
আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করে রোজার আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
পাঠকের মন্তব্য