
স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সরবরাহ, পর্যাপ্ত আমদানি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে আসার কারণে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে ছোলা, ডাল, চিনিসহ রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে।
রমজান শুরু হতে এখনও দুই মাসের বেশি বাকি থাকলেও খাতুনগঞ্জে প্রস্তুতি প্রায় শেষ। ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি, ফলে বেশিরভাগ পণ্যের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০–২৫ শতাংশ কমেছে।
মূল দাম পর্যবেক্ষণ:
-
ছোলা: অস্ট্রেলিয়ান প্রতি মণ ৩,২০০ টাকা (গত বছর ৩,৫০০), ভারতীয় প্রতি কেজি ৯০ টাকা (গত বছর ১০৫)
-
মসুর ডাল: ৭২ টাকা (গত বছর ৮৫)
-
খেসারি ডাল: ৭০ টাকা (গত বছর ৯০)
-
মটর ডাল: ৪২ টাকা (গত বছর ৫৫)
-
সাদা মটর: ৪২ টাকা (গত বছর ৫৪)
-
চিনি: প্রতি কেজি ৮৮ টাকা (গত বছর ১২০)
তবে ভোজ্যতেলের বাজারে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল ৬,৮০০ টাকা প্রতি মণ, বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৯–১৯২ টাকা প্রতি লিটার এবং পাম তেলের পাইকারি দাম ৫,৭৮০ টাকা প্রতি মণ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের দাম সাম্প্রতিক নিম্নমুখী হওয়ায় ভবিষ্যতে দাম আরও কমতে পারে।
আমদানি বৃদ্ধি
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ৫ লাখ ৩০ হাজার টন ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। এতে ফল, ডাল, ভোজ্যতেল, মসলা ও খেজুরসহ ২২ ধরনের পণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এলসি শিথিল
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় এলসি মার্জিন শিথিলের সুবিধা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে এটি ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করছে।
সতর্ক ব্যবসায়ীরা
যদিও সরবরাহ পর্যাপ্ত, তবে ব্যবসায়ীরা সতর্ক। গত বছর রমজানের আগে তেলের ঘাটতি দেখা দেয়ায় এবার আগাম অর্ডার এবং সরকারের নজরদারিতে সচেতন। খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান মিন্টু আশা করেন, এই বছর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম নিম্নমুখী এবং পর্যাপ্ত আমদানি থাকায় বাজার স্বাভাবিক থাকবে।
পাঠকের মন্তব্য