![]()
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত নতুন ব্যাংকের কার্যক্রম আগামী সপ্তাহেই শুরু হতে পারে। শনিবার সকালে ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
গভর্নর বলেন, “অচল ও সংকটাপন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ প্রয়োগ করে পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে আমরা একটি নতুন শক্তিশালী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি, আগামী সপ্তাহেই এ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।”
তিনি জানান, একীভূত ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা—যা দেশের ব্যাংক খাতে সর্বোচ্চ শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে। সরকারের সহায়তায় দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সমন্বিত করে একটি সবল ব্যাংক দাঁড় করানোই মূল লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন গভর্নর।
দেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সমস্যার সংখ্যা ও গভীরতা অনেক। এরপরও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট সারপ্লাসসহ আন্তর্জাতিক লেনদেনে ইতিবাচক উন্নতি হয়েছে।”
আসন্ন রমজানে বাজারে পণ্যের কোনো সংকট হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, গত বছর কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছিল। এ বছরও বাজারে কোনো ঘাটতি দেখা দেবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আগে দেখানো ৮ শতাংশ খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান সম্পর্কে গভর্নর বলেন, “সেটি বাস্তবতার প্রতিফলন ছিল না। আমার ধারণা ছিল খেলাপি ঋণ তিনগুণ অর্থাৎ ২৫ শতাংশ হতে পারে। এখন দেখা যাচ্ছে হার ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। দুই-তৃতীয়াংশ সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে ব্যাংকগুলোকে চলতে হচ্ছে—এ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতির তুলনায় বর্তমান নীতি সুদহার খুব বেশি নয়। “আমাদের মূল্যস্ফীতি ছিল সাড়ে ১২ শতাংশ। সে তুলনায় নীতি সুদহার ১০ শতাংশ উচ্চ মনে হলেও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের সঙ্গে পার্থক্য খুব বেশি নয়।”
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন বিআইডিএস মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক, হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ, বিএসএমএ সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।
পাঠকের মন্তব্য