![]()
রাজধানীর পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পৃথক তিন মামলায় ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত।
বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে আদালতে আসেন এবং তিন মামলায় রায় ঘোষণা করেন। মামলাগুলোতে শেখ হাসিনা, জয় ও পুতুলসহ ২৩ জন আসামি ছিলেন।
মামলার যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন প্রত্যাশা করেন। তবে পলাতক থাকায় শেখ হাসিনাসহ পরিবারের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। মামলাগুলোর বিস্তারিত হলো—একটিতে আসামি ১২ জন, আরেকটিতে ১৭ জন এবং বাকি মামলায় ১৮ জন।
দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালীন সময়ে শেখ হাসিনা ও পরিবারের সদস্যরা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নং রাস্তার মোট ৬টি প্লট বরাদ্দ গ্রহণ করেন। তারা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও গরীব দেখিয়ে এসব প্লট নিজের ও পরিবারের নামে নেন।
জয় ও পুতুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—রাজউকের অনুমোদিত এলাকায় বাড়ি বা ফ্ল্যাট থাকার পরও তা গোপন করে পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পে মা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে ১০ কাঠার প্লট গ্রহণ এবং সরকারি জমি আত্মসাৎ। এছাড়া সাবেক সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন নথি বিনষ্ট বা গায়েব করার মাধ্যমে শাস্তি এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলন দমনের সময় শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে। এর আগে, বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা যেমন বেগম খালেদা জিয়া ও হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদকেও দুর্নীতির মামলায় সাজা প্রদান করা হয়েছিল।
পাঠকের মন্তব্য