![]()
নবনিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে ফ্রান্স প্রস্তুত। তিনি মনে করান, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রে দুই দেশের স্বার্থ ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। খবর বাসস।
গতকাল ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচনের মুখোমুখি বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। এ মুহূর্তটি ফ্রান্স ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ।”
ফরাসি রাষ্ট্রদূত আরও জানিয়েছেন, ফ্রান্সের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ অঞ্চলে প্রায় ১৫ লাখ ফরাসি নাগরিক বসবাস করছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। তিনি বলেন, “ইন্দো-প্যাসিফিক হলো উন্মুক্ততা ও অবাধ চলাচলের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অঞ্চল। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স এখানে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ দেখছে।”
রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে। তিনি সতর্ক করেন, ইউরোপের কিছু দেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ও সামাজিক বিভাজনের ঝুঁকি দেখা গেছে, বাংলাদেশকেও এর বিষয়ে সচেতন থাকতে হতে পারে।
ড. ইউনূস ফ্রান্সকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আপনার দায়িত্ব গ্রহণ এমন সময়ে হয়েছে, যখন বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।” তিনি ফ্রান্সের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নসহ অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পাঠকের মন্তব্য