![]()
আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাট হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সেবা সহজীকরণ, জনদুর্ভোগ ও হয়রানি কমানো এবং দুর্নীতি রোধের লক্ষ্যে পূর্বের জটিল পদ্ধতি বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
রবিবার মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন সংস্থাগুলোর উন্নয়নকৃত বা বরাদ্দকৃত আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে এখন থেকে উত্তরাধিকার, ক্রয়, দান বা হেবা সূত্রে নামজারি, হস্তান্তর বা দলিল সম্পাদন ও বাতিল, আম-মোক্তার দলিল সম্পাদন বা বাতিল এবং ঋণ নেওয়ার অনুমতির জন্য আর লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিতে হবে না।
তবে প্লট বিভাজন, একাধিক প্লট একত্র করা বা ব্যবহার শ্রেণি পরিবর্তনের (যেমন মাস্টারপ্ল্যান পরিবর্তন) ক্ষেত্রে পূর্বের মতোই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে—
দলিলগ্রহীতা এখন থেকে রেজিস্ট্রেশনকালে ফ্ল্যাট বা ভবনসহ ভূমি হস্তান্তরের জন্য দলিলমূল্যের ২% এবং কেবল প্লট বা ভূমি হস্তান্তরের জন্য ৩% হারে অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুকূলে জমা দেবেন।
মালিকানা রেকর্ড হালনাগাদ রাখতে দলিল সম্পাদনের ৯০ দিনের মধ্যে সার্টিফাইড কপি ও রেকর্ডপত্র লিজদাতা প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হবে। দেরি হলে দৈনিক ৫ টাকা হারে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
লিজের মেয়াদ (৯৯ বছর) শেষে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়েছে বলে গণ্য হবে, এবং হস্তান্তর ফি আদায়ও রহিত হবে। তবে প্লটের বিভাজন বা ব্যবহার পরিবর্তনের জন্য অনুমতি নিতে হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প প্লট বা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে আগের মতোই অনুমোদন নিতে হবে।
যে সব প্লট বা ফ্ল্যাটে মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে, পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত, বা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিশেষ বিবেচনায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আগের নিয়ম বহাল থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এসব বিধান অনুযায়ী যেসব আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাটে অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না, সেগুলোর তালিকা পরবর্তীতে তফসিল আকারে প্রকাশ করা হবে। প্রয়োজনে তাতে সংশোধন আনা যেতে পারে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার প্লট ও ফ্ল্যাট হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে এবং নাগরিকদের ভোগান্তি ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে চায়।
পাঠকের মন্তব্য