![]()
বাংলাদেশে শীতের আগমনী বার্তা শুরু হয়েছে।
মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ বর্তমানে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ বিস্তৃত হয়ে গেছে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত। এর প্রভাবে সারাদেশে আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)।
শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূবার্ভাসে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন —
“আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এছাড়া দেশের উত্তর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
শুষ্ক থাকবে আকাশ, নামবে শিশির
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
ভোরের দিকে দেশের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে হালকা কুয়াশা পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া দেশের বেশিরভাগ জায়গায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমবে। বাতাসে ঠান্ডাভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় রাতগুলো হবে তুলনামূলক ঠান্ডা, আর সকালবেলায় অনুভূত হবে শীতের প্রথম ছোঁয়া।
রাতের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে—
“রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমবে। আগামী কয়েকদিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।”
রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে বুধবার (১২ নভেম্বর) পর্যন্ত প্রতিদিনের পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে, রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমবে, তবে ১২ নভেম্বর থেকে তা আবার সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী পাঁচ দিনের পূবার্ভাস
বিএমডি’র ৫ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে—
-
সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে।
-
ভোরবেলায় উত্তর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে হালকা কুয়াশা পড়বে।
-
১০ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
এর মানে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে আবহাওয়া হবে স্থিতিশীল ও মনোরম, তবে উত্তরের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা আরও দ্রুত নামবে।
শীতের আগমনে মানুষের প্রস্তুতি
শীতের আগমন মানেই শুধু আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, গ্রামীণ জীবনে শুরু হয় নানা পরিবর্তন। সকালবেলায় ধোঁয়াটে শিশির, পাথরের মতো ঠান্ডা বাতাস, আর মাঠে কুয়াশার চাদর— এটাই বাংলাদেশের শীতের প্রাক-ভূমিকা।
গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ এখনই প্রস্তুতি নিচ্ছে— কেউ কাঁথা ও কম্বল ঝেড়ে রাখছে, কেউ গরম পোশাকের দোকান খুলছে।
অন্যদিকে নগরজীবনে শিশুরা স্কুলে যেতে শুরু করবে গরম সোয়েটার পরে, আর সকালে দৌড়বিদরা অনুভব করবে ঠান্ডা বাতাসের ছোঁয়া।
বিশেষজ্ঞের মতামত
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন—
“এখনো মূল শীত শুরু হয়নি। তবে আগামী এক সপ্তাহে উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে রাতের ঠান্ডা বেড়ে যাবে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে দেশে শীত মৌসুম পুরোপুরি বিস্তৃত হবে।”
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন—
শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এই সময় রাতে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। ঠান্ডা বাতাসের প্রভাবে ফ্লু, কাশি ও সর্দির প্রকোপ বাড়তে পারে।
উপসংহার : শীতের প্রথম পদচারণা
বাংলাদেশের প্রান্তরজুড়ে ধীরে ধীরে নেমে আসছে শীতের কোমল আবেশ।
বাতাসে বইছে শুষ্কতার স্পর্শ, আর সকালের আলোয় ভাসছে কুয়াশার রেখা।
এই পরিবর্তন শুধু মৌসুমের নয়, প্রকৃতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা — যেখানে শীত কড়া নাড়ছে বাংলার দরজায়।
পাঠকের মন্তব্য