
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ পুলিশ এমন একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে, যা শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হবে।
আজ ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ‘হল অব প্রাইড’-এ বাংলাদেশ পুলিশের আয়োজনে বিশেষ অপরাধ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম সভাপতিত্ব করেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপাররা অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব এখন পুলিশের কাঁধে। জনগণ ও রাজনৈতিক দলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা পূরণে বাংলাদেশ পুলিশকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, “আইনের প্রয়োগ শুধু শক্তি দিয়ে নয়, ন্যায়, নিষ্ঠা ও মানবিকতা দিয়েও প্রতিষ্ঠিত হয়।”
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নির্বাচনী মাঠে আপনারা কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী নন, বরং জনগণের নিরাপত্তা, আস্থা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতীক।”
উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না। ফ্যাসিস্ট ও অপরাধচক্রের কর্মকাণ্ড রোধে গ্রেফতার অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি, তবে নিরীহ মানুষকে হয়রানি না করারও আহ্বান জানান।
তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেন, অধীনস্থদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও মনোবল বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। যারা কমান্ড মানে না বা দায়িত্বে অবহেলা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জেলা পর্যায়ে কোর কমিটির সভা বাড়াতে হবে, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে, স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চকে আরও সক্রিয় করতে হবে, এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কেপিআইগুলোর নিরাপত্তা জোরদার ও অগ্নিকাণ্ডসহ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পুলিশের ওপর হামলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সাইবার অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, তরুণ পুলিশ কর্মকর্তাদের এ খাতে নেতৃত্ব দিতে হবে।
সভায় উপদেষ্টা বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, কমিশনার ও পুলিশ সুপারদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
পাঠকের মন্তব্য