![]()
স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশের পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় নাগরিক জগদীশ সিং ও তার সহযোগী চক্রের বিরুদ্ধে। প্রতারণা ও জালিয়াতির একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার জগদীশ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকলেও, তার বাহিরে সক্রিয় চক্রটি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জগদীশ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তারা জগদীশের রিমান্ড বাড়ানো ও পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, জগদীশ সিং একজন ভারতীয় নাগরিক, যিনি গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি বাংলাদেশে এসে গুলশান ও উত্তরায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সময়েই তিনি প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র গড়ে তোলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার জমজম টাওয়ার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে তোলা হলে তার রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে আদালত একদিনের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ১৬ অক্টোবর নতুন একটি মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন ঢাকার সিএমএম আদালত।
জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে বাংলাদেশি নারী লায়লা শারমিন প্রিয়াকে বিয়ে করেন জগদীশ সিং। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। সর্বশেষ তিনি দক্ষিণ খান থানার আর্মি হাউজিং সোসাইটিতে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ভেতরে থেকে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন।
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আশুলিয়া থানায় নজরুল ইসলাম নামে একজন ব্যবসায়ী তার বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ডিসেম্বরে ওমর ফারুক হাফিজ নামে আরেক ব্যক্তি জগদীশ সিংয়ের বিরুদ্ধে ১৯ কোটি ১১ লাখ টাকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, জগদীশের সহযোগী ও নেটওয়ার্ক সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তে আরও বিস্তৃত চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সূত্রঃ বার্তা বাজার