টাইফয়েড প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর বলে জানিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার। তিনি বলেন, “এই টিকা গর্ভকালীন কোনো জটিলতা সৃষ্টি করে না, প্রজননক্ষমতা হ্রাস করে না এবং সন্তান ধারণেও কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। বরং এটি মানুষকে টাইফয়েড জ্বরের ভয়াবহতা থেকে সুরক্ষিত রাখে।”
তিনি আরও বলেন, টিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি বা গুজব ছড়ানো উচিত নয়।
“টিকা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। গুজব ছড়ালে তা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাধা দেয়,” — যোগ করেন বিভাগীয় কমিশনার।
গতকাল (বুধবার) বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘টাইফয়েড টিকা ক্যাম্পেইন নিয়ে পরামর্শ সভা’-তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভার আয়োজন করে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট (NIMC)।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, টাইফয়েড টিকা শিশুসহ সব বয়সী মানুষের জন্যই নিরাপদ। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন,
“টাইফয়েড হলো দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ানো এক প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এ টিকা গ্রহণ করলে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ থাকে।”
মানবিক প্রেক্ষাপট
টাইফয়েড এখনো বাংলাদেশের অনেক এলাকায় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি, যাতে কোনো পরিবার ভুল তথ্য বা গুজবে প্রভাবিত না হয়।
একজন মা বলেন,
“আগে শুনতাম টিকা নিলে সন্তান ধারণে সমস্যা হয়, এখন বুঝেছি এসব গুজব। আমি আমার বাচ্চাকে টিকা দিচ্ছি নিশ্চিন্তে।”
পাঠকের মন্তব্য