রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে। চলবে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিকেল ৫টা থেকে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শুরু হবে কেন্দ্রীয়ভাবে ভোট গণনা।
এটি রাকসুর ১৫তম নির্বাচন। সর্বশেষ অর্থাৎ ১৪তম রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯০ সালের ২৯ জুলাই। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর এ নির্বাচন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ক্যাম্পাসজুড়ে ঝুলছে ব্যানার-পোস্টার, মাইকে চলছে প্রার্থীদের শেষ আহ্বান।
ভোটার ও প্রার্থীর সংখ্যা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের রাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ২৮ হাজার ৯০১ জন এবং প্রার্থী ৮৬০ জন।
ভোটগ্রহণ হচ্ছে ৯টি একাডেমিক ভবনে স্থাপিত ১৭টি ভোটকেন্দ্রের ৯০৯টি বুথে।
প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জোট
শিক্ষার্থীদের মতে, এবারের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে —
-
ছাত্রদল সমর্থিত “ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম” প্যানেল, এবং
-
ছাত্রশিবির সমর্থিত “সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট” প্যানেল এর মধ্যে।
এ ছাড়াও বেশ কিছু পদে স্বাধীন প্রার্থীরাও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে “আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেল”-এর জিএস পদপ্রার্থী সালাহউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন প্রার্থী ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন।
উৎসব ও উচ্ছ্বাসে ভরপুর ক্যাম্পাস
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে টুকিটাকি দোকান পর্যন্ত এখন নির্বাচনী উচ্ছ্বাস। শিক্ষার্থীদের হাতে ব্যানার, গলায় ফেস্টুন, মুখে স্লোগান — পুরো ক্যাম্পাস যেন গণতন্ত্রের উৎসবে রূপ নিয়েছে।
প্রার্থীরা ভোটারদের হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, আবার কোথাও গান, নাটক, কবিতা দিয়ে প্রার্থীদের প্রচারণা চলছে।
নজিরবিহীন নিরাপত্তা
উৎসবের আমেজ থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবার নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী:
-
২,৩০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে ভোটকেন্দ্র ও আশপাশে,
-
১২ প্লাটুন র্যাব ও ৬ প্লাটুন বিজিবি মাঠে রয়েছে টহলে,
-
ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ ১০০টি পয়েন্টে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাখতেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
১৯৯০ সালের পর রাকসু নির্বাচন না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি ও নেতৃত্ব বিকাশ কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক চর্চায় ফিরবে—এমন প্রত্যাশা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষক সমাজ।
উপসংহার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছেন। ৩৫ বছর পর ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যালট দিতে পারছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তচিন্তা, অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বিকাশের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশায় এখন সারা ক্যাম্পাস।
পাঠকের মন্তব্য