যদি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করে বিএনপি, তারা প্রথম ১৮০ দিনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। পারদর্শী শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে মনোযোগ দেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ
বিএনপি’র পরিকল্পনায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের অর্থনৈতিক সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া, শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে যাতে শিক্ষার মান ও প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম উন্নত করা যায়।
বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন
দেশের ও প্রবাসী শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির মূল লক্ষ্য হবে – প্রাথমিক পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের বহুভাষা শিক্ষা, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নসহ বাস্তবানুগ বিষয়সমূহ শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা।
স্বল্পমেয়াদি ট্রেড কোর্স চালু
সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্লাম্বিং, ইলেকট্রিশিয়ান, মেকানিক্স, ডেন্টাল হাইজেনিস্ট, মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান ইত্যাদির স্বল্পমেয়াদি ট্রেড কোর্স চালু করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত দক্ষতা অর্জন করতে পারবে এবং চাকরির বাজারে সহজ প্রবেশ করবে।
ইন্টার্নশিপ ও ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা
শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বাস্তবমুখী করতে এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করা হবে। শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করবে এবং কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
উদ্যোক্তা গঠন ও ইনোভেশন গ্র্যান্ট
জেলা পর্যায়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকিকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্র্যান্ট প্রদান করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো – ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করা। শিক্ষার্থীরা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে।
বিএনপি সূত্রে জানানো হয়েছে, এই পরিকল্পনা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, উদ্ভাবনী এবং কর্মমুখী করার লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য