![]()
ইবি রিপোর্ট
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে দায়িত্বহীনতা বা ভুলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে মূল্যায়নের কাজে দক্ষতার ঘাটতি থাকা পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষার্থীরা যাতে পরীক্ষায় নিজেদের প্রকৃত ফলাফল পান, সে লক্ষ্যে মূল্যায়নপ্রক্রিয়ার দুর্বলতা খুঁজে বের করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর ডেমরায় সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
এহছানুল হক মিলন বলেন, খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেসব পরীক্ষকের মূল্যায়ন করার দক্ষতায় ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যাঁদের বিরুদ্ধে ভুলভাবে খাতা মূল্যায়নের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণের পর প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী অকৃতকার্য থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন।
এই অভিজ্ঞতা থেকে খাতা মূল্যায়নের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষার মান প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য ডিসেম্বরের শুরুতে পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এহছানুল হক মিলন। এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে ২৩ ডিসেম্বর।
এক বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের যেন পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে না হয়, সে বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ নভেম্বর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের সময় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ফল প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
পুনর্নিরীক্ষণের পর যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়ে পাস হবে, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন। তবে পুনর্নিরীক্ষণের পরও যাঁরা অকৃতকার্য থাকবেন, তাঁরা ভর্তি হতে পারবেন না বলে এক প্রশ্নের জবাবে জানান তিনি।
নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই ইতিমধ্যে জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পৌঁছে যাবে।
ডিসেম্বরের যেকোনো দিন নতুন বই বিতরণ করা হবে। তবে শিক্ষার্থীরা যেদিন পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বাড়ি ফিরবে, সেদিনই তাদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান এহছানুল হক মিলন।
দেশের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে চীনের সহযোগিতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ আট বিভাগে আটটি এবং কক্সবাজারে একটি—মোট নয়টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চীনা কারিকুলাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে ল্যাব স্থাপন, শিক্ষক নিয়োগ ও ভাষাশিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। কারিকুলাম প্রণয়ন এবং সার্টিফিকেশন কার্যক্রমেও চীনের অংশগ্রহণ থাকবে। এ ছাড়া দেশের প্রায় ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষাশিক্ষা চালু হয়েছে বলে জানান তিনি।
আগামী বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসরুম ও ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষকদের জন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি নেওয়া হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকা এ কর্মসূচির কাজ আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে বলে জানান এহছানুল হক মিলন।
পাঠকের মন্তব্য