![]()
ইবি রিপোর্ট
রাজধানীর লেকগুলোকে দূষণমুক্ত রাখা এবং পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ভবনমালিকদের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। অনুমোদিত নকশা অনুসারে সব ভবনে সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল নির্মাণ করতে হবে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব স্থাপনা নির্মাণ না করলে ইমারত নির্মাণ আইন ও ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজউকের আওতাধীন এলাকার লেকগুলো দূষণমুক্ত রাখা এবং সেগুলোর পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত কারিগরি কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন, অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম এবং রাজউকের সদস্য এরাদুল হক।
সভায় রাজধানীর লেকগুলোর বর্তমান দূষণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি দূষণের উৎস শনাক্ত করা, পানির গুণগত মান উন্নত করা, বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা এবং লেকগুলোর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
লেকের পানিদূষণ কমাতে ভবনগুলোর বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল নির্মাণের নির্দেশনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হলে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল ও স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে—এমন ১ হাজার ২৬৯টি ভবনের তালিকা সংশ্লিষ্ট সোসাইটিগুলোকে সরবরাহ করা হবে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েলের স্ট্রাকচারাল ডিজাইন রাজউক থেকে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। এ-সংক্রান্ত আবেদন পাওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে রাজউককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়টিও সভার সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রফিকুল হাসান এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কে এম মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর।
এ ছাড়া গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান সুমন, বারিধারা সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সাকিফ এ তাবানী ও সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মতিন, বনানী সোসাইটির প্রেসিডেন্ট শওকত আলী ভূঁইয়া দিলন এবং নিকেতন সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল রেজাউল করিম সভায় অংশ নেন।
পাঠকের মন্তব্য